ময়লার সঙ্গে স্ক্র্যাপ পাচার, পুরনো লাইট সরবরাহের সত্যতা মিলেছে
তিন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিত্রে বাংলাদেশ রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে অভিযান চালিয়েছে দুদক। এর মধ্যে দুইটিতে রেলেওয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানানো হয়েছে দুদকের পক্ষ থেকে। মঙ্গলবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুদকের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেনের নেতৃত্বে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চল চট্টগ্রামে এই অভিযান চালানো হয়।
অভিযান শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক সাঈদ মোহাম্মদ ইমরান হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, আমরা তিনটি অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করতে এসেছি।
একটি অভিযোগ দেওয়া হয় বিভাগীয় ব্যবস্থাপক কারখানা কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, এখান থেকে ময়লার সঙ্গে রেলের অব্যবহৃত যন্ত্রাংশ (স্ক্র্যাপ) পাচার করা হচ্ছে। স্ক্র্যাপ পাচারের সময় পুলিশ একটি গাড়ি জব্দ করে রেলওয়েকে জানায়। তখন এখানকার কর্তৃপক্ষ ব্যবস্থা নেয়।
গাড়িচালক রাসেল ও তার সহযোগীকে বহিষ্কার করা হয়। এই অভিযোগটির সত্যতা পাওয়া গেছে।
সাঈদ মোহাম্মদ বলেন, আমরা সরেজমিনে গিয়ে দেখেছি , ময়লার সঙ্গে স্ক্যাপ রাখা হয়েছে। ফলে যারা ময়লা বাইরে নিয়ে যান, তারা চাইলে সহজেই স্ক্র্যাপগুলো বাইরে নিয়ে যেতে পারেন।
কর্তৃপক্ষের যথাযথ মনিটরিংয়ের অভাব রয়েছে বলে আমাদের কাছে মনে হয়েছে। কারণ অনেক স্ক্র্যাপ ময়লার সঙ্গে মেশানো দেখতে পেয়েছি।
দুদকের সহকারী পরিচালক আরো বলেন, দুদকের কাছে আরেকটি অভিযোগ ছিল ১২৮৪ পিস লাইট সরবরাহের জন্য একটি প্রতিষ্ঠানকে কার্যাদেশ দেওয়া নিয়ে। প্রথম ঠিকাদার আরেকজনের সহযোগিতা নিয়ে লাইট সরবারহ করেন। পারভেজ নামের এক ব্যক্তি লাইট সরবরাহ করেন।
সব লাইট নতুন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তার মধ্যে ৮০০টি নতুন থাকলেও ৪৮৪টি লাইট ছিল পুরনো। লাইটগুলো এখানকার ডিপো ইনচার্জ নাছির উদ্দিন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের না জানিয়ে গ্রহণ করেন। পরে রেলওয়ে তদন্ত করে পুরনো লাইট নেওয়ার বিষয়টির প্রমাণ পান। ফলে নাছির উদ্দিনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। এই অভিযোগটিরও সত্যতা পেয়েছে দুদক।
অপর অভিযোগে বলা হয়, রেলওয়ের জেলা সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রক সাজ্জাদ ইসলাম ২০২২-২৩ সালে বেশ কিছু স্ক্র্যাপ টেন্ডারের মাধ্যমে ঠিকদারের কাছে বিক্রি করেন। এখান থেকে স্ক্র্যাপ বের হওয়ার সময় বিক্রি করা স্ক্র্যাপের সঙ্গে অতিরিক্ত ৬০ টন স্ক্র্যাপ জব্দ করা হয়। বিষয়টি যাচাই করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। জানতে পেরেছি, এই ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। এই অভিযোগ পাওয়ার পর দুদক থেকে রেলওয়েকে চিঠি লেখা হয়, অভিযোগটি খতিয়ে দেখার জন্য। তার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে রেলওয়ে তিন সদস্যের কমিটি অভিযোগের কোনো সত্যতা পায়নি। অর্থাৎ সাজ্জাদ ইসলাম ও অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোনো সত্যতা পাওয়া যায়নি।
দুদকের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, আমাদের কাছে তিনটি অভিযোগ ছিল। এর মধ্যে কাগজপত্রে আমরা দুইটি অভিযোগের সত্যতা পেয়েছি। আর একটি অভিযোগের সত্যতা পাইনি। রেলওয়ে থেকে কিছু ডকুমেন্ট চেয়েছি। এগুলো যাচাই-বাছাই করে আমরা প্রতিবেদন দেব।
কমেন্ট বক্স